তিনি বলেন, ফাহিমার বিচারও ১৫ দিনের মধ্যে হওয়ার ঘোষণা দিলে এরজন্য তিনি অবশ্যই দোয়া পাবেন এবং প্রধানমন্ত্রীর আনুগত্যকরণ অনুসরণ করবো।
মঙ্গলবার (০২ জুন) সিলেট সদর উপজেলা পাশবিক নির্যাতনের পর হত্যাকাণ্ডের শিকার ফাহিমার গ্রামের বাড়িতে গিয়ে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
বিরোধী দলীয় নেতা দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে হতাশা ব্যক্ত করেন বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিসহ সার্বিক বিষয় নিয়ে হতাশার কথা আছে। ৭ তারিখ সংসদে বাজেট অধিবেশন শুরু হবে।
তিনি বলেন, সাংবাদিকরা রামিসার বাবাকে বলেছিল, তিনি বিচার চান কি না? তিনি বলেছিলেন, কার কাছে বিচার চাইবো। তিনি অসহায়ত্ব প্রকাশ করেছেন, কেননা, বিচার বিভাগ, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ওপর মানুষের আস্থা নেই। আস্থা থাকলে তিনি একথা বলতেন না। আমরা সেই বাবাকেও কথা দিয়ে এসেছি, আপনার পাশে আছি, থাকবো। বাংলাদেশের মানুষ যেখানেই মজলুম হবে, সেখানেই আমরা হাজির হবো। আমরা মানে জামায়াত একবুক দরদ নিয়ে হাজির হবে। মজলুম কোন দলের বা ধর্মের আমরা সেটা দেখবো না।
আমরা লোক দেখানো কিছুই করতে চাই না। কেবল বিপদে তাদের পাশে দাঁড়াতে চাই। আমরা বিপদ দূর করতে পারবো না, তবে কষ্টের ভার নিতে পারবো। এলাকাবাসীর কাছে ফাহিমার পরিবারকে আমানত হিসেবে রেখে যাওয়ার কথা বলেন তিনি।
তিনি বলেন, আইনগত দিক থেকে আদালতে তাদের পক্ষে আমরা সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবো। এটা একটি অসম লড়াই। এই অসম লড়াইয়ে এলাকাবাসী তাদের পক্ষ নিলে তারা জিতবে, ইনশাল্লাহ। আমরা চাই, আর কোনো মাকে যেন চোখের পানি না ফেলতে হয়।
পেট্রোল, অকটেন ও কেরোসিনের দাম বাড়িয়ে জনগণের ওপর করের বোঝা বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, এটা নিয়ে প্রথমে আমি কথা বলেছি, টাইমলাইনে গিয়ে খুঁজলে পাবেন। আমি স্পষ্টই বলেছি, এটা জনগণের ওপর সুবিচার করা হয়নি। গত মাসে ১২ শতাংশ দাম বাড়ানো হলো। একমাসের ব্যবধানে আবারও দাম বাড়ানো হলো। আর যদি করতেই হয়, সামনে বাজেট অধিবেশন ছিল, সেটা নিয়ে বসে আলোচনা করা যেতো, নয়তো তেলের ক্রাইসিস মোকাবেলায় কমিটি ছিল, আলোচনা করা যেতো, সরকারও বাধ্য হতো, ন্যায্যতার ভিত্তিতে একটা সিদ্ধান্ত নিতে। যৎসই না হলে আমরা সংসদ থেকে ওয়াকআউট করতাম। বরং তড়িঘড়ি করে পাশ কাটিয়ে এই কাজ করেছেন, এটা জনগণের সাথে প্রতারণা। এটা জনগণের নির্বাচিত পার্লামেন্টের অধিকার ক্ষুণ্ন করা হয়েছে। আলাপ করে করলে জনগণও বুঝতো কতটুকু করা দরকার। উপরন্তু জনগণ যখন ঘুমিয়ে, তখন তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে। এটা ভাল কাজ না, ভাল কাজ হলে দিনের বেলা করতেন।
হাম উপসর্গে শিশু মৃত্যুর বিষয়ে তিনি বলেন, সরকারের বয়স ৩ মাস হয়েছে, তারা কী করছে। অন্তর্বর্তী সরকার টিকা কিনে না থাকলে, এর ব্যাখ্যা তারা দেবে। কিন্তু উনারা (বিএনপি) ৩ মাসে কি করেছেন, তার ব্যাখ্যাও দিক। উনারাতো হঠাৎ করে ঘুম থেকে ওঠেননি। উনারা দায়িত্বে আসার আগেই হামের প্রাদুর্ভাব শুরু হয়েছে। এর মাঝেই কাভারেজ দেওয়া দরকার ছিল, সেটা যদি দিয়ে থাকেন, আলহামদুলিল্লাহ। যেসব বাচ্চা হামসহ অন্যান্য টিকা নিয়েছে, তাদের হাম হলেও হালকা গ্রেডে হচ্ছে। কিন্তু যারা টিকা পায়নি, তারা হাম হওয়ার সাথে সাথেই দুনিয়া ছেড়ে চলে যাচ্ছে। দায় কার আছে, এ বিষয়ে আমরা সংসদে জানতে চাইবো। যেমন তেলের বিষয়ে সংসদে বিরোধিতা হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, বাংলাদেশে তেলের কোনো অভাব নাই। আগে থেকে প্রতিদিন বিক্রি হয় বেশি এরপর আমরা রাস্তায় নেমে দোকানীদের জিজ্ঞেস করলাম-চিত্র পেলাম সম্পূর্ণ ভিন্ন। সংসদে যখন চেপে ধরলাম, তখন তারা স্বীকার করতে বাধ্য হলেন, যে তেল সংকট আছে।
তিনি বলেন, মুখে মুখে সব, আসলে কিছুই নাই। সব সোনা আর ডায়মন্ডের মোহর ঝুলিয়ে দেওয়া হচ্ছে। মূলত; যা বাস্তব আছে, তাই জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে। তখন সবাই মিলে আমরা সমাধানের পথ খুঁজবো, কীভাবে সমস্যা থেকে উত্তরণ হওয়া যায়। দেশ এবং জাতির পাশে দাঁড়ানোর দায়িত্ব সরকারের একার নয়। সরকারের প্রধান দায়িত্ব, পাশাপাশি বিরোধী দলের তথা আমাদেরও দায়িত্ব আছে। আমরা আমাদের দায়িত্ব পালন করতে চাই। কেউ আমাদের সেই অধিকার না দিলে আমরা তা আদায় করে ছাড়বো।






